বিশ্বজুড়ে নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে পার হলো ২০১৬

0
43

সময়ের পাতা ডেস্ক: সারা পৃথিবী জুড়ে নানা ধরনের বড়ো বড়ো ঘটনার সাক্ষী ২০১৬ সাল। এর মধ্যে একটি বড় অংশ জুড়ে আছে বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ। তুষার ঝড়, ভূমিকম্প, দাবানল, ঘূর্ণিঝড়ে নাকাল হয়েছে বিশ্ববাসী। ঘটেছে অনেক প্রাণহানির ঘটনা।

বছরের শুরুটাই হয় শক্তিশালী তুষার ঝড় জোনাসকে দিয়ে। ১৮৬৯ সালের পর সবচেয়ে বেশি তুষারপাতের কবলে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটনসহ ১১টি রাজ্যের নয় কোটি মানুষ পড়ে ভোগান্তিতে। কিছু কিছু জায়গার একশো সাত সেন্টিমিটার পর্যন্ত বরফের স্তর পড়ে। প্রাণহানী ঘটে অর্ধশত মানুষের। জারি করা হয় সর্বোচ্চ সতর্কতা। তুষার ঝড় শেষ হলে বন্যার কবলে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র ।

ফেব্রুয়ারিতে ছয় দশমিক চার মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে তাইওয়ান। এতে দক্ষিণাঞ্চলের তাইনান শহরে সতেরো তলা একটি ভবন ধসে মারা যায় একশো ১৬ জন। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানলে পুড়ে যায় সাড়ে পাঁচ লাখ একর এলাকা। ধ্বংস হয় ৩৪ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি। প্রায় ৮২ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

ক্যালিফোর্নিয়া যখন পুড়ছিলো তখন বন্যায় ভাসছিলো লুইজিয়ানা। ছয়টি নদীর পানির উচ্চতা রেকর্ড ছাড়ায়। হ্যারিকেন স্যান্ডির পর এই বন্যাকে সবচেয়ে বড়ো দুর্যোগ আখ্যা দেয় রেড ক্রস। প্রাণ হারায় ১৩ জন।

আগস্টে ছয় দশমিক দুই মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে ইতালিতে। এতে ধ্বংস হয় গোটা আমাট্রিস শহর। মৃত্যু হয় আড়াইশো মানুষের। এর কয়েক ঘন্টাপর ছয় দশমিক আট মাত্রার ভূকম্পনে কেঁপে ওঠে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ এবং ভারত।

এ বছর ক্যারিবীয় অঞ্চলে আঘাত হানে স্মরণকালের ভয়াবহ হ্যারিকেন ম্যাথিউ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় হাইতিতে। কয়েকশো মানুষের প্রাণহানীর ঘটে। ম্যাথিউর আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনায় দেখা দেয় বন্যা। মারা যায় ৪৩ জন।

বছরের শেষ দিকে ডিসেম্বরে ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে আঘাত হানে ছয় দশমিক পাঁচ মাত্রার ভূমিকম্প। এতে প্রাণ যায় একশো জনের। গৃহহীনের সংখ্যা দাঁড়ায় কয়েক হাজার। বড়দিনে সাত দশমিক সাত মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে চিলিতে। ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে চার হাজার মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিভিন্ন ভবন, স্থাপনা এবং রাস্তাঘাট।

বছরের শেষে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে ফিলিপাইন। টাইফুন নক-টেনের আঘাতে ছয় জন নিহত হয়। তিন লাখ ৮০ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয় কর্তৃপক্ষ। -তথ্যসূত্র : ইনডিপেন্ডেন্ট টিভি