পশ্চিমবঙ্গে বিক্ষোভে নিহত দুই

0
54

সময়ের পাতা অনলাইন ডেক্সঃ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ভাঙড় এলাকায় পাওয়ার গ্রিড বসানোর প্রতিবাদে চলা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে গুলিতে দুজন নিহত হয়েছেন। তাঁরা হলেন- আলমগীর ও মফিজুল খান।পশ্চিমবঙ্গে

মঙ্গলবার দিনভর ভাঙড় গ্রামে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। বিকেলে গোলাগুলি হয়। এতে গুলিবিদ্ধ দুজনকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। এ ব্যাপারে স্থানীয় বিধায়ক ও রাজ্যের খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রী আবদুর রেজ্জাক মোল্লা বলেছেন, ‘দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবরটা শুনেছি। এর বেশি আর কিছু বলতে পারব না।’

এদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা অনুজ শর্মা জানিয়েছেন, পুলিশের গুলিতে ওই দুজনের মৃত্যু হয়নি। বহিরাগতদের গুলিতে তাঁরা মারা গেছেন। তবে নিহতদের স্বজনদের দাবি, পুলিশের গুলিতেই আলমগীর ও মফিজুল মারা গেছেন।

স্থানীয় লোকজন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুলিশের  বিক্ষোভকারীদের মধ্যে মুখোমুখি দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীদের প্রতিরোধ করতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। এ সময় লাঠিপেটা ও গুলি চালানো হয়। পাওয়ার গ্রিডের প্রকল্প বাতিল হওয়ার পরেও এদিন রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় স্থানীয় মাছিডাঙ্গা, খামারআইট, শ্যামনগর, টোনা ও পদ্মপুকুর গ্রাম। স্থানীয় বিদ্যুতের সাবস্টেশন থেকে পুলিশ প্রত্যাহারের দাবিতে সকাল থেকেই বিক্ষোভে নামেন স্থানীয় লোকজন। পুলিশের সামনেই একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেন তাঁরা।

পুলিশকে লক্ষ্য করে বিক্ষোভকারীরা ইট নিক্ষেপ শুরু করেন। ভাঙচুর করা হয় পুলিশের গাড়ি, যার জেরে পাল্টা লাঠিপেটা শুরু করে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাতে পুলিশ বাহিনী এসে বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে। বিনা প্ররোচনায় নারী-পুরুষ ওপর লাঠিপেটা করছে। এলাকায় ঘরবাড়ি ভাঙচুর করছে।

অন্যদিকে, পুলিশের অভিযোগ, তাদের লক্ষ্য করে গ্রামবাসীরা ইট পাটকেল ছুড়ছে, যা নিয়েই মঙ্গলবার উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় এলাকায় পাওয়ার গ্রিড প্রকল্প বাতিলের দাবিতে গত ১১ জানুয়ারি থেকে প্রতিবাদ বিক্ষোভে শামিল হয় এলাকার মানুষজন।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সরকার অল্পমূল্যে জমি অধিগ্রহণ করছে। তা ছাড়া এই পাওয়ার গ্রিড প্রকল্পের কারণে তাদের জমির ওপর বিদ্যুতের খুঁটি বসানো হচ্ছে। ফলে কৃষিকাজে সমস্যা হচ্ছে। এ কারণে এরই মধ্যে রাস্তার ওপর গাছের গুঁড়ি ফেলে, আগুন জ্বেলে চলে পথ অবরোধ করা হয়েছে। ভাঙড়বাসীর আন্দোলনে শরিক হন স্থানীয় দেগঙ্গা, হাড়োয়া প্রভৃতি এলাকার মানুষ। ফলে সমস্যা জটিল থেকে জটিলতর আকার নেয়। বাধ্য হয়ে পাওয়ার গ্রিড প্রকল্প বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য বিদ্যুৎ দপ্তর।

প্রকল্প বন্ধ ঘোষণা করার পরেও এই গোলমালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভন দেব চট্টোপাধ্যায় জানান, আপাতত ওই  প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।  স্থানীয় লোকজনের জমিতে পাওয়ার গ্রিড বসানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করেছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।