কলকাতার বিধানসভায় হাতাহাতি, কংগ্রেসের মান্নান হাসপাতালে

0
17

ডেস্ক রিপোর্টঃ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় ক্ষমতাসীন তৃণমূলের সাংসদদের সঙ্গে বিরোধী দলের সাংসদদের তুমুল হাতাহাতির ঘটনায় কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নানকে বের করে দিলেন স্পিকার। স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা আব্দুল মান্নানের মধ্যে তুমুল বাকবিত-ার জের ধরে হট্টগোলের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে তাকে সাসপেন্ড করেন। এরপর ক্ষমতাসীন ও বিরোধী বিধায়কদের মধ্যে হাতাহাতির শুরু হয়। এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে বিরোধী দলনেতা মান্নানকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। টাইমস অব ইন্ডিয়া

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই সম্পত্তি রক্ষা বিলের প্রতিবাদে গায়ে পোস্টার সেঁটে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন আব্দুল মান্নান। ২০০০ সালে বিরোধী দলে থাকাকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধানসভা অভিযানের ছবি গায়ে সেঁটে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন মান্নান।

বিলের বিরোধিতায় নোটিশ আনেন তিনি। কিন্তু তা খারিজ করে দেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পিকার মান্নানকে পোস্টার খুলে ফেলার নির্দেশ দেন। জ্যাকেট খুলে ফেলুন। পোস্টার খুলে নিন গা থেকে,’ মান্নানকে বলেন স্পিকার। কিন্তু স্পিকারের নির্দেশ অগ্রাহ্য করেন মান্নান। এরপরই আব্দুল মান্নাকে সতর্ক করে স্পিকার বলেন, ‘এটা কিন্তু চ্যালেঞ্জিং অ্যাটিটিউড।’

এরপর বাকবিত-ায় শুরু হয় এবং এতে জড়িয়ে পড়েন বর্ষীয়ান মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। একে অপরের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিতে থাকেন শাসক ও বিরোধী দলের বিধায়করা। এরপরই মান্নানকে বিধানসভা থেকে সাসপেন্ডের নির্দেশ দেন স্পিকার।

স্পিকারের নির্দেশে আরো ক্ষেপে যান বিরোধী বিধায়করা। বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী স্পিকারকে অনুরোধ করেন নির্দেশ প্রত্যাহার করতে। কিন্তু, ততক্ষণে বিরোধী ও শাসকদলের বিধায়কদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। এক পর্যায়ে কংগ্রেস বিধায়ক প্রতিমা রজককে পাঁজাকোলা করে বের করে দেওয়ার সময় তাঁর শাড়ি খুলে যায়। চক্রবূহের মধ্যে মান্নানকে ঘিরে রাখেন বিরোধী বিধায়করা। পরে মার্শাল ডাকার নির্দেশ দেন স্পিকার। কিন্তু, হাউজ ছাড়বেন না বলে জানিয়ে দেন বিরোধী দলনেতা। বিধানসভা কক্ষে ধস্তাধস্তিতে অসুস্থ হয়ে পড়েন আব্দুল মান্নান। গোটা ঘটনার প্রতিবাদে মিছিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাম ও কংগ্রেস বিধায়করা।

এ ঘটনায় বিধানসভায়তেই প্রতিক্রিয়া দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘মান্নান সাহেবের এত অধঃপতন হয়েছে, ভাবতে পারছি না। স্পিকারকে অসম্মান করা হচ্ছে। এই বিল নতুন নয়। আগে চিৎকার করেননি কেন? এগুলো লোকদেখানো পাবলিসিটি। বাংলায় আইনশৃঙ্খলা সবচেয়ে ভালো। মিডিয়া-পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর মেনে নেব না।’ এরপর তৃণমূল বিধায়ক মানস ভুঁইয়াকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মান্নান সাহেবকে দেখে আসবেন।’ পিএসি’র চেয়ারম্যান পদ নিয়ে আব্দুল মান্নানের সঙ্গে মানস ভুঁইয়ার সম্পর্ক খারাপ হয়েছিল। যার জেরে দলত্যাগ করে তৃণমূলে আসেন সবংয়ের বিধায়ক। তাঁকে মান্নানকে দেখতে যেতে বলায় বিধানসভায় শাসকদলের বিধায়কদের মধ্যে হাসির রোল ওঠে।

এদিকে, পরিষদীয়মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় গোটা ঘটনায় বিরোধীদের সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী বিধায়কদের হাতে প্রহৃত হয়েছেন বিধানসভার নিরাপত্তারক্ষীরা। হুলুস্থুল কা-ের মধ্যেই সম্পত্তি রক্ষা বিল পেশ করেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বিরোধীশূন্য অবস্থায় পাশ করা হয় বিলটি। আমাদের সময়.কম